শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

 

শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দুই ভাই, রমজান আলী ও আবু হোসেন, আজ বুধবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা আবু সাঈদের মা-বাবার সালাম ও শুভকামনার বার্তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে পৌঁছে দেন।

গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তাঁর এই আত্মত্যাগের কথা ড. ইউনূস নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্মরণ করেছিলেন। রমজান আলী ও আবু হোসেন জানান, তাঁদের পরিবার তখন আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল।

বৈঠকে রমজান আলী ড. ইউনূসকে বলেন, “আপনি সাঈদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পরদিনই আমাদের গ্রামে এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা আমাদের অত্যন্ত সম্মানিত করেছে।”

আবু সাঈদ হত্যা মামলার অগ্রগতি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানান শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাই। তাঁরা জানান, শহীদ আবু সাঈদের নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের, যা দরিদ্র ও অভ্যুত্থানে আহতদের সহায়তায় কাজ করবে। গ্রামে একটি মডেল মসজিদ এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্যও তাঁরা সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।

ড. ইউনূস জানান, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত শেষ করতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “শহীদ আবু সাঈদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তাঁর আত্মত্যাগ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে বিশাল ভূমিকা রেখেছে।”

আবু সাঈদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমার দরজা সব সময় তোমাদের জন্য খোলা থাকবে। আমি সব সময় তোমাদের পাশে থাকব।”

আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টাকে গার্ড স্যালুট দেওয়া হয়, যেখানে শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাইও উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment

0 Comments